কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা: ছিনতাইকারীদের ধাক্কায় চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পরই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘটনার রাতে চারজন ছিনতাইকারী একটি অটোরিকশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর চালক ও যাত্রীবেশে থাকা তিনজন তাকে ডেকে অটোরিকশায় তোলে। পরে ধারালো অস্ত্রের মুখে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন। রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের সবাইকে পেশাদার ছিনতাইকারী বলে উল্লেখ করেছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার সুজনের কাছ থেকে বুলেট বৈরাগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, চক্রটি গভীর রাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজি বা অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। ঘটনার রাতে তারা কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় অবস্থান করছিল।
তিনি আরও জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে এসে জাগরঝুলিতে বাস থেকে নামেন বুলেট বৈরাগী। গন্তব্য জাঙ্গালিয়া জানালে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাকে পাশে বসতে বলে। পরে সিএনজি জাঙ্গালিয়ার দিকে রওনা হলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনি চাকু বের করে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করার পর তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।
৩৫ বছর বয়সী বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং গত ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
পরিবার জানায়, প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটে কুমিল্লা নগরের টমছন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা ফোনে জানান। তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, শেষবার কথা বলার সময় ছেলের কণ্ঠ ‘অপরিচিত’ মনে হয়েছিল।
পরে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান এবং শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।



.png)

%20.png)

No comments: